পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে গৃহীত প্রস্তাবকে খারিজ করল ভারত
পাকিস্তান সবসময়ই ভারতের প্রতিটি অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এসেছে। সম্প্রতি ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশের প্রসঙ্গও পাকিস্তান সংসদের আলোচ্য বিষয় হয়েছে। এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায়, শুধু পাকিস্তানই নয় অন্য কোনো দেশেরই এই বিষয়ে বক্তব্য রাখার এক্তিয়ার নেই। উল্লেখ্য, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন–CAA’র আওতায় পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আগত সংখ্যালঘুদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার সংস্থান রয়েছে।
পাকিস্তান সেদেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি যে ব্যবহার করে থাকে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট সমালোচনা হয়েছে। ফলে ভারতের CAA নিয়ে ইসলামাবাদের এই মাথাব্যথা।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, খ্রীস্টান মহিলা আসিয়া বিবিকে মুক্তিদান সংক্রান্ত পাকিস্তানের সুপ্রীম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সেদেশে তীব্র রক্ষণশীল প্রতিক্রিয়া সমগ্র বিশ্ব দেখেছে। শেষ পর্যন্ত আসিয়া বিবি, তার পরিবার এবং আইনজীবি দেশ ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
পাকিস্তান মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তথা সেদেশের প্রথম আইন ও শ্রম মন্ত্রী যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল ১৯৫০’এর দশকে পাকিস্তান ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। শ্রী মন্ডল পরে তাঁর পাকিস্তানের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করে কলকাতায় আশ্রয় নেন।
একইভাবে পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টোর বিষয়ে রায়দানকারী বিচারপতি দোরাব প্যাটেলকেও শুধুমাত্র পারসি হওয়ার কারণে প্রধান বিচারপতির দায়িত্বভার থেকে বঞ্চিত করা হয়। আহমদিয়া হওয়ার কারণে পাকিস্তানের পরমাণূ কর্মসূচীর প্রধান ডঃ এ. কিউ খানও বৈষম্যের শিকার হন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক বলেছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ নিয়ে পাকিস্তান যে অপপ্রয়াস চালিয়ে এসেছে, পাকিস্তান সংসদের এই প্রস্তাব তাকে পুষ্ট করার আরো একটি দূর্বল প্রচেষ্টামাত্র। নতুন দিল্লি আস্থা প্রকাশ করেছে যে, পাকিস্তানের এই সমস্ত প্রয়াস ফলপ্রসূ হবে না।
পাকিস্তান সংসদে গৃহীত প্রস্তাবটি প্রকৃতপক্ষে সেদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি মনোভাবকে চাপা দেওয়ার প্রয়াস। পাকিস্তানের হিন্দু, ক্রীশ্চান ও শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের ক্রমশ হ্রাস পাওয়া সংখ্যা সেদেশের প্রকৃত পরিস্থতি তুলে ধরছে।
পাকিস্তান সংসদে গৃহীত সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯’এর ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এই আইনের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু দেশের অত্যাচারিত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভারতের নাগরিকত্ব প্রদানের সংস্থান রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতের ধর্ম নির্বশেষে কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব খারিজ হবে না।
এটি অত্যন্ত হাস্যকর যে, পাকিস্তানের যে সংসদ সংখ্যালঘুদের জন্য বৈষম্য মূলক আইন পাশ করে, তারাই আবার অপরের দিকে আঙুল তুলছে। ভারত পাকিস্তানকে তাদের আত্মবিশ্লেষণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্বে সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতে সংবিধানের আওতায় জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।
ঘটনাচক্রে পাকিস্তান সংসদে CAA নিয়ে আলোচনার দিনই পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পরভেজ মুশারফকে পেশোয়ার হাইকোর্ট মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয়। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী অবিলম্বে এই রায়ের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করে এবং মুশারফকে একজন প্রকৃত পাকিস্তানি বলে জানায়।
সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, পাকিস্তানের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে নাটকীয় প্রহসন চলছে।
( মূল রচনাঃ কৌশিক রায়)
Comments
Post a Comment