ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ভান্ডারের শ্রীবৃদ্ধি
ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ভান্ডার – ফরেক্স’এর পরিমাণ ২০শে ডিসেম্বর ২০১৯’এর তথ্য অনুসারে সর্বকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ ৪৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। মার্চ ২০১৯’এর ৪১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় এই পরিমাণ যথেষ্ট বেশী। এই ব্যাপক বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হল ফরেন কারেন্সি অ্যাসেটস – FCA । মার্চ ২০১৯’এর তুলনায় FCA’এর হার ১০ শতাংশ বেড়েছে।
এই FCAতে রয়েছে মার্কিন ডলার, ইউরো, পাউন্ড স্টার্লিং, জাপানিজ ইয়েন সহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা সমূহ। এগুলির মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে মার্কিন ডলারের নিরীখে। ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রিপোর্ট অনুসারে আরবিআই’এর বৈদেশিক মুদ্রা বেচাকেনা, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ভান্ডারের ব্যবহারজনিত আয়, কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন ধরণের বৈদেশিক সহায়তা এবং সম্পদের পূণর্মূল্যনির্ধারণে পরিবর্তনের প্রেক্ষিতেই FCA’র ওঠানামা নির্ভর করে।
FCA ছাড়াও FOREX’এর আরো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল, সোনা, স্পেশাল ড্রইং রাইটস - SDR এবং আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার – IMF’এ রিসার্ভ ট্রাঞ্চ পজিশন – RTP। ২০শে ডিসেম্বর ২০১৯’এর রিপোর্ট অনুসারে FOREX’এর ৯৩ শতাংশই হল FCA। অন্যদিকে সোনা ৬ শতাংশ, SDR ০.৩২ শতাংশ এবং IMF’এ রিসার্ভ পজিশন ০.৮০ শতাংশ।
মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন GDP’র হারে বৈদেশিক ক্ষেত্রের পরিমাণ, অর্থনীতির উদারতা এবং নগদ অর্থের চাহিদার ওপর বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ভান্ডারের চাহিদার বিষয়টি নির্ধারিত হয়। ১৯৩৪’এর আরবিআই আইনের ভিত্তিতেই ফোরেক্সের প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থাপনা নির্ধারিত হয়েছে। ফরেক্স্বের উৎসগুলি বোঝার জন্য, ব্যালেন্স অফ পেমেন্টস – BOP’র কারেন্ট অ্যাকাউন্ট (বাণিজ্য ঘাটতি) এবং মূলধন অ্যাকাউন্ট উভয়ই দেখতে হবে।
মূলধনী অ্যাকাউন্টের মূল দুটি উপাদান হল, প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ – FDI এবং ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট – FPI। বাণিজ্য ঘাটতি কমা এবং প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ার ফলে ফরেক্সের এই শ্রীবৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ভান্ডার কতটা মজবুত তা নির্ভর করে তা থেকে আমদানি ক্ষেত্রের ব্যয় কতটা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে তার ওপর। মার্চ ২০১৯’এ তা ছিল সাড়ে ৯ মাস। ২০১৯-২০ চলতি অর্থ বছরে তা বেড়ে ১০ মাস হয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হ'ল, ক্রমবর্ধমান ফরেক্স ভান্ডার কতটা স্থিতিশীল বা অস্থির। এটি ফরেক্সের স্বরূপের উপর নির্ভর করে। যদি বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগ এবং বকেয়া স্বল্প মেয়াদী ঋণের মতো অস্থির মূলধনী প্রবাহ ফরেক্সের প্রধান উপাদান হয়, তবে ফরেক্স ভান্ডার স্থিতিশীল হবে না।
ফরেক্স সংক্রান্ত আরবিআই’এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে ফরেক্সের অস্থির মূলধনী প্রবাহের অনুপাত চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষের ৮৮. ৭ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে জুন মাসের শেষে ৮৬.৭ শতাংশ হয়েছে।
সুতরাং ক্রমবর্ধমান ফরেক্স থেকে সার্বিক আর্থিক নিশ্চয়তার আশা করা অসম্ভব যখন একাধারে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা পরিস্থিতি চলছে এবং অন্যদিকে ভারতের স্থানীয় বাজারে অতিরিক্ত যোগান রয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পুনরায় বলেছেন যে, সরকার শুধুমাত্র বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ভান্ডারের ক্রমবৃদ্ধির ওপর নির্ভর না করে আর্থিক ও রাজস্ব ক্ষেত্রের কাঠামোগত সংস্কারের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেবে। ২০২০’র আসন্ন কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রেক্ষিতে আশা করা হচ্ছে, সরকার এমন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করবে যা দেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।
( মূল রচনাঃ লেখা চক্রবর্তী )
Comments
Post a Comment