ভারতের আর্থিক বিকাশ অব্যহত থাকবে - OECD অর্থনৈতিক সমীক্ষা

নতুন দিল্লিতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন সংস্থা – OECD’র গত সপ্তাহে প্রকাশিত অর্থনৈতিক সমীক্ষায় জানানো হয়েছে, ভারতের বিকাশের হার অব্যহত থাকবে। তবে একই সঙ্গে বেসরকারি কর্পোরেট ক্ষেত্রে বিনিয়োগে মন্দা এবং শিল্প উৎপাদনে ঘাটতির বিষয়ে রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ক্রয় ক্ষমতাই ভারতের আর্থিক বিকাশের মূল চালিকা শক্তি। এতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, কর ব্যবস্থা ও ব্যবসা বাণিজ্য প্রক্রিয়ার সরলীকরণ এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে ভবিষ্যতে বিকাশের গতি ত্বরান্বিত হবে। উচ্চমানের জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি এবং গ্রামীণ ক্ষেত্রে সীমিত আয়ের মোকাবিলা এক্ষেত্রে অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

আর্থিক বিকাশের ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে বৈষম্য দূর করার ওপর বিশেষভাবে নজর দিতে হবে বলেও রিপোর্টে জানানো হয়। OECD’র মুখ্য অর্থনীতিবিদ লরেন্স বুন রিপোর্টটি প্রকাশ করে জানান, বিকাশের অগ্রগতির দিক থেকে ভারত বিশ্ব অর্থনীতিতে বিশেষ স্থান অর্জন করতে পেরেছে। তবে অর্থনৈতিক বিকাশ হার পুণরুজ্জীবিত করতে সার্বিক ও পরিকাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিতে হবে।

OECD অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্ট অনুসারে ২০২০ সালে ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশ হার ৬.২ শতাংশ এবং ২০২১এ ৬.৪ শতাংশ হবে। বর্তমানের ৫.৮ শতাংশ অর্থনৈতিক বিকাশের হার আরো বাড়ানোর লক্ষ্যে রপ্তানি এবং বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে। এই রিপোর্টে আর্থিক অন্তর্ভূক্তির উদ্যোগ, অনাদায়ী ঋণ NPA’এর বিষয়ে পদক্ষেপ, দেউলিয়া আইনের যথাযথ প্রয়োগ, জিএসটি কার্যকর করা এবং কর্পোরেট কর ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, পরিষেবা ক্ষেত্রের বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। উল্লেখ্য, ভারতের পণ্য এবং পরিষেবার ক্ষেত্রে রপ্তানির হার ১৯৯০’এর ০.৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮তে ২.১ শতাংশ হয়েছে। এর মূল দুই চালিকা শক্তি হল তথ্য প্রযুক্তি ও ঔষধ ক্ষেত্র।

OECD রিপোর্টে ভারতের বিকাশের গতি তরান্বিত করার ক্ষেত্রে শ্রম আইনের আধুনিকীকরণ, অর্থনীতিতে আরো বেশী সংখ্যায় মহিলাদের যোগদান, আর্থিক ক্ষেত্রের উন্নয়ন, বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং সবার জন্য বাসগৃহের লক্ষ্য পূরণে বাড়িভাড়া ও সম্পত্তি আইন জোরদার হওয়ার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।

আয়ে বৈষম্য এবং মহিলাদের যোগদানের মাধ্যমে কর্মীশক্তি জোরদার করার মতো সামাজিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলার বিষয়েও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার অক্টোবর ২০১৪ থেকে উন্মুক্ত স্থানে শৌচকর্ম বন্ধ করার লক্ষ্যে প্রায় ১ কোটি শৌচালয় নির্মাণের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সেই বিষয়টিও রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের উন্নতি হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মহিলাদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ভারতের গৃহীত পদক্ষেপের কথাও রিপোর্টে বলা হয়েছে।

তবে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় আরো বেশী পদক্ষেপ ও পরিবেশ বান্ধব বিকাশের ওপর গুরুত্বদানের প্রয়োজন রয়েছে বলে OECD অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে। বায়ু দূষণ যথেষ্ঠ বেশী এবং এ বিষয়ে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দূষণ আরো বাড়বে বলেও রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

OECD রিপোর্টে নতুন ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাফল্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে আরো সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ভারতের প্রশংসা করা হয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে OECD রিপোর্টে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, সার্বিক আর্থিক নীতি ও তার ব্যবস্থাপনার বিকাশ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ, বিশ্ব অর্থনীতিতে আরো বেশী করে যোগদান, সম্পত্তির মালিকানা ও সুলভ বাসগৃহ নির্মাণ এবং পরিবেশ বান্ধব বিকাশে উৎসাহদান।

( মূল রচনাঃ ডঃ লেখা এস চক্রবর্তী)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?