লাভরভের সফরে মজবুত ভারত-রুশ সম্পর্ক

রাইসিনা বার্তালাপে অংশ গ্রহণের জন্য রুশ বিদেশ মন্ত্রী সারগেই লাভরভের নতুন দিল্লী সফর ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো উন্নত করার এক সুযোগ প্রদান করে। বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির বিষয়ে শ্রী লাভরভ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ এস জয়শংকরের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই পরিস্থিতিতে ইরান, লিবিয়া এবং সিরিয়া যুক্ত রয়েছে। পরে রুশ বিদেশ মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেন এবং কথাবার্তা বলেন। লাভরভের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন গতবছর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে এবং ২০২০তে নতুন দিল্লী এবং মস্কোর মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব স্থাপনের ২০তম বার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে, তাই এই বছরকে সেই সব সিদ্ধান্ত রুপায়নের বর্ষ হিসেবে গন্য করা উচিত।

বিদেশ মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায়, ডঃ জয়শংকর এবং শ্রী লাভরভ মধ্য প্রাচ্যের উত্তেজনা সম্পর্কে কথাবার্তা বলেন। এই বর্ধিত উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতি এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভৌগলিক রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। উভয় বিদেশ মন্ত্রী ২০২০ সালের দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচি পর্যালোচনা করেন। নতুন বছরের প্রারম্ভে ভারত এবং রাশিয়ার মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের এই প্রথম বৈঠক এ বছরে অনুষ্ঠিতব্য একাধিক বহুপাক্ষিক সম্মেলনের সময়, ভবিষ্যৎ শিখর পর্যায়ের বিভিন্ন আলোচনার পথ স্থির করবে বলে আশা করা যায়।

রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন এবং প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগে ২০১৯এর সেপ্টেম্বরে ২০তম ভারত-রুশ বার্ষিক শিখর সম্মেলনে ভ্লাদিভস্তকে মিলিত হয়েছিলেন। উভয় নেতা রুশ রাষ্ট্রপতির ভারত সফরের সময় এবছর পরের দিকে আবার মিলিত হবেন বলে আশা করা যায়। আরো যে সব বৈঠকে তাদের মিলিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর মধ্যে রয়েছে জি-২০ শিখর সম্মেলন, ব্রিক্স শীর্ষ বৈঠক এবং সাংহাই সহযোগিতা সংগঠন এস সি ও শীর্ষ বৈঠক। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিজয় দিবসের ৭৫তম বার্ষিকীতে যোগ দিতে মে মাসে মস্কো সফরের কথা আছে।

বিদেশ মন্ত্রী লাভরভ ভারত এবং রাশিয়ার মধ্যে বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বের অগ্রগতি নিয়ে কথাবার্তা বলেন। তিনি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ জয়শংকর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়েও আলোচনা করেন। গতবছর ভ্লাদিভস্তকে ২০তম বার্ষিক শিখর সম্মেলনের পর জারী করা যৌথ বিবৃতিতে বলা হয় যে ভারত এবং রাশিয়া সাফল্যের সঙ্গে সমসাময়িক বিশ্বের উত্তাল বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করতে সম্মত হয়েছে এবং বাইরের প্রভাব থেকে মুক্ত রয়েছে। উভয় দেশের কাছে ভারত-রুশ সম্পর্কের সার্বিক বিষয়টি বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। কৌশলগত অংশীদারিত্বে এই বিশেষ প্রকৃতি প্রদর্শিত হয়েছে। জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এটি স্থিতিশীলতার দিশারী হিসেবে এক অন্য মাত্রা পেয়ছে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো সম্প্রসারিত করার জন্য ভারত এবং রাশিয়া ২০২৫ সাল নাগাদ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়িয়ে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নিয়ে যাবার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে দুটি দেশ তাদের সম্ভাবনাকে সক্রিয়ভাবে সদ্ব্যাবহার করতে রাজী হয়েছে। উভয় দেশ বর্তমানে নতুন প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব সৃষ্টি করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বিশেষ করে উন্নত উচ্চ প্রযুক্তি এবং সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্ব স্থাপিত হবে।

দুটি দেশ স্বীকার করে যে সামরিক এবং কারিগরি ক্ষেত্রে ঘনিষ্ট সহযোগিতা তাদের বিশেষ দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের মূল স্তম্ভ। এই আদর্শে ভারত ও রাশিয়া মার্কিন বিরোধীতা সত্বেও ভারতে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা সরবরাহ সংক্রান্ত কৌশলগত চুক্তি সম্পাদন করেছে। ভারতের সসস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে রাশিয়া সর্বদাই ভারতের নির্ভরযোগ্য অংশীদার এবং রাষ্ট্রসংঘ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে তারা ভারতকে সমর্থন করে এসেছে। ১৫ সদস্যের রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্যও রাশিয়া ভারতকে সমর্থন করে। তাছাড়া সম্মানীয় ৪৮ সদস্যের পরমাণূ সরবরাহকারী গোষ্ঠী এন এস জিতে ভারতের প্রবেশের বিষয়েও তারা জোরালোভাবে সমর্থন জানায়।

এই প্রেক্ষাপটে রুশ বিদেশ মন্ত্রীর ভারত সফর চলতি সহযোগিতা কর্মসূচিগুলি পর্যালোচনার এক অপূর্ব সূযোগ প্রদান করেছে। ভারত-রুশ সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ভৌগলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও উজ্জ্বল সম্ভাবনাময়। (মূল রচনাঃ রঞ্জিত কুমার)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?