ভারত-মার্কিন আলোচনা

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ের ভারপ্রাপ্ত মার্কিন সহকারী বিদেশ মন্ত্রী শ্রীমতী অ্যালিস ওয়েলস ও সে দেশের সহকারী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাথু পটিংগার নতুন দিল্লিতে আয়োজিত পঞ্চম রায়সিনা বার্তালাপে অংশ নিতে সম্প্রতি ভারত সফরে আসেন। এই সফরে তাঁরা ভারতীয় নেতৃবর্গের সঙ্গেও পৃথকভাবে আলোচনা করলেন। যাত্রা পথে শ্রীমতী অ্যালিস ওয়েলস পাকিস্তান ও শ্রীলংকাও সফর করে গেলেন।

রায়সিনা বার্তালাপে ম্যাথু পটিংগার তাঁর ভাষণে ভারত- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সম্পর্কে দুটি দেশের অবস্থানকে এক বলিষ্ঠ আন্তর্জাতিক আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই আদর্শের বলেই ভারত- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির জন্য জল ও আকাশ পথের অবাধ ব্যবহার, অবাধ বাণিজ্য নীতি, মুক্ত চিন্তা ও সর্বোপরি প্রতিটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আইনের অনুশাসনের প্রতি ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব সময়েই শ্রদ্ধাশীল। 

রায়সিনা সম্মেলনে অংশ গ্রহণের পাশাপাশি মার্কিন সহকারি বিদেশ মন্ত্রী শ্রীমতী অ্যালিস ওয়েলস আগামী মাসে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রাথমিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন। এই সফর চূড়ান্ত হলে ২০১৬’তে মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার পর এটাই হবে মার্কিন রাষ্ট্রপতি হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম ভারত সফর। উল্লেখ করা যেতে পারে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক বিদ্যমান, যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ বহন করেছে ২০১৯’এ টেক্সাসে হাউডি মোদি অনুষ্ঠান।

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে ক্রমশ এক নতুন উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করা লক্ষ্যে সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করছে। এরই অঙ্গ হিসেবে ২০১৯’এর ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে ২+২ বার্তালাপ অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই বার্তালাপে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারতীয় নেতৃবর্গের সঙ্গে আলোচনাও শ্রীমতী অ্যালিস ওয়েলস’এর সাম্প্রতিক ভারত সফরের ছিল অন্যতম উদ্দেশ্য। ওই বার্তালাপে প্রতিরক্ষা ও অসামরিক ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি অ্যানেক্স –ISA নামে একটি চুক্তির আওতায় দুটি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে গোপন সামরিক তথ্যের সংস্থান রয়েছে। ওই বার্তালাপে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিও ঘোষণা করা হয়। এই সব চুক্তির ফলে দুটি দেশের বেসরকারি প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সহযোগিতায় গতি আসবে। 

শ্রীমতী অ্যালিস ওয়েলস তাঁর এই ভারত সফরে প্রবীণ সরকারী আধিকারিক ছাড়াও সুশীল সমাজের সদস্যদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। এই সব বিষয়ের মধ্যে অন্যতম ছিল গণতন্ত্র, ন্যায় বিচারের আদর্শ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থে সকল দেশের জন্য অবাধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্ব। উল্লেখ্য, ২০১৯’এ ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া-এই চারটি দেশগোষ্ঠীর মন্ত্রী স্তরীয় প্রথম বৈঠকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার সংকল্প গ্রহণ করা হয়। ওই বৈঠকের সুত্র ধরেই শ্রীমতী অ্যালিস প্রবীণ সরকারী আধিকারিক ও সুশীল সমাজের সদস্যদের সঙ্গে কথা বললেন। তিনি এ দেশের ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করেন। 



গত দু দশক সময়ে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে যুগান্তকারী অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমন কোনও ক্ষেত্র নেই যেখানে দুটি দেশ একযোগে কাজ করছে না। এ সবের মধ্যে আছে নিয়মিত কৌশলগত আলাপ আলোচনা, প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাস দমন ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, তেজঃশক্তি, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জন স্বাস্থ্য ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা। আগামী দিনে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার আরও নতুন নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা সম্ভব হবে ও দুটি দেশ সম্মিলিতভাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই সকল মহলের অনুমান। (মূল রচনাঃ- ডঃ স্তুতি ব্যানার্জী )

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?