চীন ও পাকিস্তানের মিলিত ষড়যন্ত্র আবার বিফল হল

রাষ্ট্রসংঘকে কাশ্মীর প্রসঙ্গ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় রাজী করাতে চীনের অপপ্রয়াস আর একবার ধাক্কা খেল, যে আলোচনায় এই বিশ্ব সংস্থাকে রাজী করাতে পাকিস্তান চীনকে ইন্ধন যুগিয়েছিল। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিলের প্রসঙ্গটি চীন এই নিয়ে তৃতীয় বার রাষ্ট্রসংঘে উত্থাপনের চেষ্টা করল। নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য দেশই এই আলোচনায় অসম্মতি জানিয়ে কাশ্মীর প্রসঙ্গটি একান্তভাবে দ্বিপাক্ষিক বিষয় বলে আবার তাদের অবস্থান ব্যক্ত করল। এই ঘটনায় চীন ও পাকিস্তান মুখের মত জবাব পেয়ে গেল বলে মন্তব্য কোরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক চীনকে এর থেকে উচিত শিক্ষা গ্রহণের পরামর্শ দিল। 

রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরুদ্দীন পাকিস্তানের এই নিষ্ফল প্রচেষ্টা সম্পর্কে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন,ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষ দেশের অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতেই যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ধরণের দুরভিসন্ধিমূলক আচরণ করে থাকে তা এখন বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সামনেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন অযথা অন্য দেশের প্রতি দোষারোপ না কোরে ছোট ছোট অথচ নির্ণায়ক পদক্ষেপ গ্রহণ করাই কূটনৈতিক দক্ষতার পরিচয় বহন করে। ভারত কূটনৈতিক স্তরে ধারাবাহিকভাবে এই ধরণেরই প্রচেষ্টা নিয়ে আসছে, যার প্রত্যক্ষ ফল লক্ষ্য করা গেছে কাশ্মীর প্রসঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের মধ্যে চারটির বক্তব্যে। এই চারটি দেশ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়া কাশ্মীর প্রসঙ্গ ও সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিলের সিদ্ধান্তকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে অভিহিত কোরে পাকিস্তানের অভিযোগকে খারিজ করে দিয়েছে। চীন নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর প্রসঙ্গটি নিয়ে নতুন কোরে আলোচনার দাবি জানালে এই চারটি স্থায়ী সদস্য দেশ তা খারিজ করে দেয়। উল্লেখ করা যেতে পারে, পাকিস্তানকে পাশে নিয়ে চীন বহুবারই কাশ্মীর প্রসঙ্গটির আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্থাপনের চেষ্টা করেছে। প্রতিবারই তাতে সে বিফল হয়েছে। 

প্রকৃত অর্থে সমগ্র বিশ্ব কাশ্মীর বিবাদকে একান্তই দ্বিপাক্ষিক বিষয় বলে গণ্য করে। তাদের মতে ভারত ও পাকিস্তানকে নিজেদের মধ্যেই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এই বিবাদের সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। সৈয়দ আকবর উদ্দীন বলেন আন্তর্জাতিক মহলের এই অভিমতকে পেইচিং ও ইসলামাবাদকে এখন স্বীকার করে নিতেই হবে। না হলে পাকিস্তানকে কূটনৈতিক দিক থেকে আরও অপদস্থ হতে হবে। পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রনীতির অঙ্গ হিসেবে প্রয়োগ করছে বলে তিনি ইসলামাবাদের কঠোর সমালোচনা করেন।

কাশ্মীর বিষয়ক সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদটি রদের পর থেকেই পাকিস্তান কাশ্মীর প্রসঙ্গটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্থাপনের কোনো সুযোগই প্রায় হাতছাড়া করে নি। তবে প্রতিবারই এতে সে বিফল হয়েছে। আসলে কেবল মাত্র ইমরান খান সরকারই বা কেন, সে দেশের প্রতিটি সরকারই অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে দেশবাসীর দৃষ্টি ঘোরাতে ভারতের প্রতি বিষোদ্গার করে থাকে। এ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয় নি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে কোণ ঠাসা করতে গিয়ে প্রতিবারই নিজেই কোণ ঠাসা হয়ে পড়েছে। 



পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে এখন অনুধাবন করতে হবে যে কাশ্মীর প্রসংগটি বার বার আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্থাপন না করে ও প্রতিবেশি দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে অযথা নাক না গলিয়ে নিজের দেশকে প্রকৃত অর্থে রিয়াসত-এ মদিনা অর্থাৎ কল্যাণকামী রাষ্ট্র হিসেবে গঠনের প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে, ক্ষমতায় আসবার আগে তিনি তাঁর দেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। (মূল রচনাঃ- কৌশিক রায়)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?