ভারতের সঙ্গে মজবুত সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব ই ইউ’এর বিদেশ ও নিরাপত্তা নীতি সংক্রান্ত প্রধানের

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশ ও নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি জোসেফ বোরেল ফন্টেলেস ২০২০’র রাইজিনা আলোচনায় যোগ দিতে সম্প্রতি ভারতে এসেছিলেন। ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সাযুজ্যের উল্লেখ করেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিভিন্ন বিবাদ মীমাংসা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনার অচলাবস্থা যা ইউরোপ, ভারত সহ দক্ষিণ এশিয় দেশগুলির আশঙ্কার কারণ হয়ে উঠেছে তার প্রেক্ষিতে, তিনি একটি নীতিভিত্তিক বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। ফন্টেলেস জানান, ইইউ এই অচলাবস্থা মেটানোর লক্ষ্যে প্রস্তাব পেশ করেছে। ভারত ও ইইউ’কে এই সমস্যার নিরসনে বাস্তব সমাধানসূত্র বার করতে হবে।

সমুদ্রাঞ্চলের নিরাপত্তা মজবুত করার ক্ষেত্রে বিশ্ব সম্প্রদায় জলদস্যুর মোকাবিলা এবং সামুদ্রিক সম্পদের সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এই পরিপ্রেক্ষিতে সমুদ্র ক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একযোগে কাজ করা আবশ্যিক বলে তিনি উল্লেখ করেন। পশ্চিম ভারত মহাসাগরে হর্ণ অব আফ্রিকার নিকটবর্তী সমুদ্রে জলদস্যু সমস্যার মোকাবিলায় ‘অপরেশন অ্যাটলান্টা’ ভারতের সঙ্গে এই ধরণের সহযগিতার এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ বলে ফন্টেলেস জানান।

ইইউ প্রতিনিধি, ২০২৫’এর মধ্যে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরাপত্তা, ডিজিটাল এবং জলবায়ু পরিবর্তন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা রূপায়ণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। উভয়পক্ষের মধ্যে এই লক্ষ্যে আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ১৩ই মার্চ ২০২০’তে নির্ধারিত পরবর্তী ভারত-ইউরোপ শিখর সম্মেলনে এটি অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।

অন্য যে সমস্ত ক্ষেত্রে ভারত ও ইইউ’এর একযোগে কাজ করা প্রয়োজন তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হল, জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যা। এর জন্য প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কার্যকর করা বিশেষভাবে প্রয়োজন এবং এক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের জন্য দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া ও একযোগে কাজ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

২০১৬’য় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ই ইউ নেতৃবৃন্দের মধ্যে ইইউ-ভারত স্বচ্ছ শক্তি এবং জলবায়ু অংশীদারিত্ব সংক্রান্ত চুক্তিটি - CECP এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল, সবার জন্য স্বচ্ছ, সুরক্ষিত ও সুলভ শক্তি এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কার্যকর করার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সুনিশ্চিত করতে ভারত ও ইইউ’এর মধ্যে সহযোগিতা।

ভারত ও ইইউ বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার প্রসারের বিরুদ্ধে একযোগে সরব হয়েছে। অতীতেও ভারত ও ইইউ ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় গৃহীত প্রয়াস অব্যহত রাখার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেছে। সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় ভারত ও ইইউ আয়োজিত কর্মশালাগুলি এক্ষেত্রে বিশেষভাবে সহায়ক হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতীয় এবং ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

বাণিজ্য ক্ষেত্রে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে একযোগে কাজ করার আরও বেশী প্রয়াস নিতে হবে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি – FTA সংক্রান্ত আলোচনা পুণরায় শুরু করার বিষয়ে উভয়পক্ষকে গুরুত্ব দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে ইইউ কয়েকটি মূল বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছে যে বিষয়ে ঐকমত্য হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে এই আলোচনায় শ্রম ও মানবাধিকারের বিষয় অন্তর্ভূক্ত করার জন্য ইইউ’এর প্রয়াসের ভারত বিরোধিতা করে। ভারত এক্ষেত্রে স্বতন্ত্র কর্মী গোষ্ঠী গঠনের কথা বলেছে।

শ্রী ফন্টেলেস জানান, আগামী মার্চ মাসে নির্ধারিত ভারত-ইইউ শিখর সম্মেলন উভয়ের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব মজবুত করতে সহায়ক হবে এবং বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে সহযোগিতার আরো প্রসার হবে। ভারত ও ইইউ গণতন্ত্র, বহুপাক্ষিকতা ও নীতিভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপরে গুরুত্ব দিয়েছে। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি সর্বাত্মক ও উদার নীতির বিষয়েও ভারত ও ইইউ এক মত পোষণ করে; সুতরাং একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে উভয়কে একযোগে নীতি-কৌশল গ্রহণ ও কার্যকর করার প্রয়াস নিতে হবে। ( মূল রচনাঃ ডঃ সংঘমিত্রা শর্মা )

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?