গান্ধীজীঃ অহিংসার দূত
স্বাধীনতা এবং মুক্তির জন্য সংগ্রামরত নেতাদের ভাবনা চিন্তাকে গান্ধীজির বিভিন্ন ভাবনা এবং আদর্শ সবসময়ই নাড়া দিয়েছে। গত বছর নিউইয়র্ক টাইমসে একটি লেখায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেলসন ম্যান্ডেলার কথা উদ্ধৃত করেন। শ্রী ম্যান্ডেলা গান্ধীকে “পবিত্র যোদ্ধা” বলে অভিহিত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, মানব সমাজের শক্তিশালী বৈপরীত্যগুলির মধ্যে সেতু হয়ে ওঠার অনন্য ক্ষমতা ছিল গান্ধীজীর। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর লেখায় গান্ধীজী সম্পর্কে অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, আগামী প্রজন্ম বিস্মিত হবে যে প্রকৃতপক্ষে এইরকম একজন মানুষ এই পৃথিবীতে ছিলেন।"
এমন এক সময়ে যখন বিশ্ব দ্বন্দ্ব এবং হিংসায় জর্জরিত, গান্ধীর দর্শন এবং আদর্শগুলি আজও প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়। গান্ধীর দর্শন কেবল রাজনৈতিক সংগ্রামেরই হাতিয়ার ছিল না; তার লক্ষ্য ছিল বস্তুবাদ ও ভোগবাদ থেকে মানবজাতিকে উন্নীত করা। গান্ধীজী ব্যক্তিগত এবং পেশাগত আচরণে চরিত্র এবং নৈতিকতার উপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি কেবল সত্য ও অহিংসার প্রচারক ছিলেন না, তিনি বাস্তব জীবনেও এগুলি অনুসরণ করেছিলেন। গান্ধী মহান কারণ তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁর প্রতিটি আদর্শকে মেনে চলেছেন। তিনি তাঁর আত্মজীবনীটির শিরোনাম দিয়েছিলেন "সত্যের সঙ্গে আমার পরীক্ষানিরীক্ষা"।
অহিংসার ধারণাগুলি গান্ধীজির সত্যাগ্রহের ধারণা যার অর্থ ‘সত্যকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখা’ তার মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। ১৯০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাতে এর সূচনা হয়েছিল, যেখানে তিনি বর্ণবাদ বা বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন। পরে ব্রিটিশ উনিবেশবাদ থেকে ভারতের স্বাধীনতা লাভের সংগ্রামে তিনি তা প্রয়োগ করেছিলেন। তিনি বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন যে, সত্য, অহিংসা ও প্রেম বলপ্রয়োগ ও হিংসার চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
একটি সেনাবাহিনী এবং সহিংস বিপ্লবে প্রদর্শিত শক্তির চেয়ে তা সম্পূর্ণ আলাদা শক্তি। গাঁধী প্রকৃত অর্থেই বিশ্বের একমাত্র নেতা যিনি অহিংসার শক্তিকে রাজনৈতিক পদক্ষপে রূপান্তরিত করতে পেরেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা শুধুমাত্র সত্যগ্রহের জন্মস্থানই ছিল না, তা ছিল এর প্রধান পরীক্ষার স্থল এবং পরীক্ষাগার। গান্ধীজী তাঁর ব্যক্তিগত জীবন থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনৈতিক জীবনে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিলেন যার মাধ্যমে অনেক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
গান্ধীজী ১৯০৯ সালে প্রিটোরিয়ার কারাগারে তিন মাস অতিবাহিত করেন। তখনই তিনি উপনিষদ, বাইবেল ছাড়াও জন রাসকিন, লিও টলস্তয়, আর.ডব্লিউ এমারসন এবং হেনরি ডেভিড থোরিউর রচনা পড়েন। গান্ধীজীর ওপর এই সব রচনা এবং দর্শনের গভীর প্রভাব পড়ে।
গান্ধীর কাছে অহিংসার মূল উত্স ছিল সর্বজনীন প্রেমের চেতনা। ভালবাসা এবং অহিংসা যেমন মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি, তেমনি সমস্ত জীবের জন্যই তা স্বাভাবিক। গান্ধীজি বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন যে, অন্তরের শুদ্ধতার সঙ্গে একযোগে নেওয়া অহিংস প্রয়াস, এমন এক পরিবেশ তৈরি করে যাতে হিংসার চিন্তাভাবনাগুলি বিলীন হয়ে যায়। গান্ধী আরও বলেন, অহিংসার অর্থ এই নয় যে এটি দুর্বলদের হাতিয়ার। গান্ধীর শান্তি ও অহিংসার ধারণাগুলির মূল হল আশা এবং আশাবাদ। এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই যে, তাঁর ধারণা এবং আদর্শগুলি চীনের মতো সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করা বিশ্বের বহু দেশের কাছেও ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
(মূল রচনাঃ রূপা নারায়ণ দাস)
এমন এক সময়ে যখন বিশ্ব দ্বন্দ্ব এবং হিংসায় জর্জরিত, গান্ধীর দর্শন এবং আদর্শগুলি আজও প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়। গান্ধীর দর্শন কেবল রাজনৈতিক সংগ্রামেরই হাতিয়ার ছিল না; তার লক্ষ্য ছিল বস্তুবাদ ও ভোগবাদ থেকে মানবজাতিকে উন্নীত করা। গান্ধীজী ব্যক্তিগত এবং পেশাগত আচরণে চরিত্র এবং নৈতিকতার উপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি কেবল সত্য ও অহিংসার প্রচারক ছিলেন না, তিনি বাস্তব জীবনেও এগুলি অনুসরণ করেছিলেন। গান্ধী মহান কারণ তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁর প্রতিটি আদর্শকে মেনে চলেছেন। তিনি তাঁর আত্মজীবনীটির শিরোনাম দিয়েছিলেন "সত্যের সঙ্গে আমার পরীক্ষানিরীক্ষা"।
অহিংসার ধারণাগুলি গান্ধীজির সত্যাগ্রহের ধারণা যার অর্থ ‘সত্যকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখা’ তার মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। ১৯০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাতে এর সূচনা হয়েছিল, যেখানে তিনি বর্ণবাদ বা বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন। পরে ব্রিটিশ উনিবেশবাদ থেকে ভারতের স্বাধীনতা লাভের সংগ্রামে তিনি তা প্রয়োগ করেছিলেন। তিনি বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন যে, সত্য, অহিংসা ও প্রেম বলপ্রয়োগ ও হিংসার চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
একটি সেনাবাহিনী এবং সহিংস বিপ্লবে প্রদর্শিত শক্তির চেয়ে তা সম্পূর্ণ আলাদা শক্তি। গাঁধী প্রকৃত অর্থেই বিশ্বের একমাত্র নেতা যিনি অহিংসার শক্তিকে রাজনৈতিক পদক্ষপে রূপান্তরিত করতে পেরেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা শুধুমাত্র সত্যগ্রহের জন্মস্থানই ছিল না, তা ছিল এর প্রধান পরীক্ষার স্থল এবং পরীক্ষাগার। গান্ধীজী তাঁর ব্যক্তিগত জীবন থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনৈতিক জীবনে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিলেন যার মাধ্যমে অনেক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
গান্ধীজী ১৯০৯ সালে প্রিটোরিয়ার কারাগারে তিন মাস অতিবাহিত করেন। তখনই তিনি উপনিষদ, বাইবেল ছাড়াও জন রাসকিন, লিও টলস্তয়, আর.ডব্লিউ এমারসন এবং হেনরি ডেভিড থোরিউর রচনা পড়েন। গান্ধীজীর ওপর এই সব রচনা এবং দর্শনের গভীর প্রভাব পড়ে।
গান্ধীর কাছে অহিংসার মূল উত্স ছিল সর্বজনীন প্রেমের চেতনা। ভালবাসা এবং অহিংসা যেমন মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি, তেমনি সমস্ত জীবের জন্যই তা স্বাভাবিক। গান্ধীজি বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন যে, অন্তরের শুদ্ধতার সঙ্গে একযোগে নেওয়া অহিংস প্রয়াস, এমন এক পরিবেশ তৈরি করে যাতে হিংসার চিন্তাভাবনাগুলি বিলীন হয়ে যায়। গান্ধী আরও বলেন, অহিংসার অর্থ এই নয় যে এটি দুর্বলদের হাতিয়ার। গান্ধীর শান্তি ও অহিংসার ধারণাগুলির মূল হল আশা এবং আশাবাদ। এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই যে, তাঁর ধারণা এবং আদর্শগুলি চীনের মতো সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করা বিশ্বের বহু দেশের কাছেও ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
(মূল রচনাঃ রূপা নারায়ণ দাস)
Comments
Post a Comment