প্রযুক্তি-চালিত ভবিষ্যতের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্ব

বেঙ্গালুরু টেক সামিট ২০২০তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্বোধনী ভাষণে সকলকে উন্নততর সেবা প্রদানের জন্য প্রযুক্তিকে সুসংহত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। আমাদের বিভিন্ন প্রকল্পে যেভাবে দ্রুত গতিতে কাজ হচ্ছে এবং ভারতীয়দের জীবনযাত্রা যেভাবে প্রভাবিত হচ্ছে তার জন্য প্রযুক্তির মূখ্য ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকার প্রযুক্তিকে সমস্ত প্রকল্পের মূল অঙ্গ হিসাবে গ্রহণ করেছে এবং একটি ‘টেক-ফার্স্ট’ পদ্ধতির ভিত্তিতে প্রশাসনের মডেল তৈরি করেছে। শ্রী মোদী বলেন যে গত কয়েক মাসে যে পরিমাণ প্রযুক্তি অবলম্বন করা হয়েছে তা এক দশকেও সম্ভব না হতে পারে। “আমরা এখন তথ্য যুগের মাঝখানে অবস্থান করছি, বলে প্রধানমন্ত্রী মনে করেন। 


তিনি বলেন, এটি আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় যাতে আমরা স্বল্প সময়ের মধ্যে COVID-19 ভাইরাসের বিরুদ্ধে বিপুল সংখ্যক লোককে টিকা দিতে পারি। প্রধানমন্ত্রী যুবকদের শক্তিশালী সাইবার সুরক্ষা সমাধানের উপায় খুঁজে বার করতে বলেন, যাতে কার্যকরভাবে সাইবার-আক্রমণ এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা দেওয়ার জন্য আরও বড় ভূমিকা নিতে পারে। 

এই প্রসঙ্গে, উল্লেখ করা যেতে পারে যে প্রযুক্তি বর্তমান COVID মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে ভার্চুয়াল পদ্ধতি এই গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজনে সহায়তা করছে। পাঁচ বছর আগে চালু হওয়া “ডিজিটাল ইন্ডিয়া” এখন আর কোনও সরকারী উদ্যোগ নয় - এটি জীবনযাত্রায় পরিণত হয়েছে। এটি দেশকে উন্নয়নের দিশায় আরও বেশি মানবিকতা কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করেছে। 

বেঙ্গালুরু টেক সামিট ভারতে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত আই সি টি, ইলেকট্রনিক্স এবং জৈবপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের সবচেয়ে পুরনো এবং সুনির্দিষ্ট অনুষ্ঠান। কর্ণাটক ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি - কর্ণাটক সরকারের তথ্য প্রযুক্তি, জৈব-প্রযুক্তি এবং স্টার্ট-আপস – এবং ভারতের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কগুলির সঙ্গে একত্রে কর্ণাটক সরকার এই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে। ২৩তম বছরে, এই সম্মেলন শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি সংস্থা, তরুণ উদ্ভাবক টেকনোক্র্যাটস, বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক, গবেষক সকলের কাছে আলোচনার এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে উঠেছে।

এই বছর, শীর্ষ সম্মেলনের মূল বিষয় ভাবনা হল "নেক্সট ইস নাও" এবং তথ্য-প্রযুক্তি এবং জৈব প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রগুলিতে বিশিষ্ট প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের প্রভাবকে কেন্দ্র করে মহামারী-পরবর্তী বিশ্বজুড়ে উদ্ভূত মূল চ্যালেঞ্জগুলি নিয়ে মূলত আলোচনা হবে। 

৩ দিনের এই সম্মেলনে প্রধান প্রধান বিষয়ের চারটি ট্র্যাক থাকবে-নলেজ হাব, ইনোভেশ কর্ণার, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, কাজের ভবিষ্যৎ, জনস্বার্থে সার্ট আপ, ইলেক্ট্রনিক্স এবং সেমি কন্ডাক্টরস, ডিজিটাল হেলথ এবগ কোভিড ১৯ মহামারী‘। 

কর্ণাটকের একটি অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ গ্লোবাল ইনোভেশন অ্যালায়েন্সে ১৫ টি দেশ উপস্থিত থাকবে যা শীর্ষ সম্মেলনে দেশ ভিত্তিক অধিবেশন পরিচালনা করবে। এর মধ্যে রয়েছে কানাডা, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, ইস্রায়েল, নেদারল্যান্ডস,ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, সুইডেন, তাইওয়ান, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, বাহরাইন, জাপান এবং লিথুয়ানিয়া।


ভার্চুয়াল উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন, তিনি বলেন, জুনে স্বাক্ষরিত ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় দুটি দেশ ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি সাইবার এবং সক্ষম প্রযুক্তির ওপর কাজ করবে। দুই দেশ অস্ট্রেলিয়া-ভারত সাইবার এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি অংশীদারিত্ব অনুদান প্রোগ্রাম চালু করতে প্রস্তুত। সেখানে উভয় দেশের বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তি, কাঠামো এবং সর্বোত্তম অনুশীলনের মান নিয়ে কাজ করবেন।

বেঙ্গালুরুতে নেদারল্যান্ডসের কনসাল জেনারেল, গার্ট হেইজকুপ বলেছেন, বেঙ্গালুরু টেক সামিট আমাদের দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ককে আরও উচ্চতর স্তরে নিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম। হেগ বিজনেস এজেন্সি এই বছরের শীর্ষ সম্মেলনে ভারতীয় স্টার্ট আপদের জন্য একটি ডিজিটাল সফট-ল্যান্ডিং প্রোগ্রাম চালু করবে।

আগামী কয়েক দিনে, এই সম্মেলনে বিশ্বের সেরা মননের দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যাবে, নেতারা ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দেবেন, টেকনোক্র্যাটরা নতুন পণ্য চালু করবেন এবং স্টার্ট-আপগুলি নতুন নতুন ধারণা নিয়ে যথার্থ প্রযুক্তি চালিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। (মূল রচনাঃ বিমান বসু)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?