কভিড-পরবর্তী সময়ে ভারত বিশ্বব্যাপী শক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে


২০২০র মার্চ মাস থেকে নভেল করোনা ভাইরাসের প্রেক্ষিতে আরোপিত লকডাউন পর্যায়ক্রমে তুলে নেবার ফলে ভারতীয় অর্থনীতির দ্রুত পুনরুদ্ধার ঘটছে বলে সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে উৎসাহ ব্যঞ্জক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই মহামারীর অবস্থায় অর্থনীতির আসল ক্ষেত্রগুলিতে নতুন কার্যকলাপ শুরু হওয়ায় ২০২০র অক্টোবর মাসে পণ্য ও পরিষেবা কর সংগ্রহের পরিমাণ ১.০৫লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, উৎসবের মরশুমে যা ভালো অনুভূতির আর একটি বিষয়। লকডাউনের আগে ফেব্রুয়ারী মাস থেকে এ পর্যন্ত এটাই এক মাসে পরোক্ষ করের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জি এস টি সংগ্রহ।

লক্ষ করার বিষয় হল যে সেপ্টেম্বরে বৃদ্ধির হার ছিল ৪ শতাংশ এবং অক্টোবরে এই হার বেড়ে হয়েছে ১০.২৫ শতাংশ। মার্চ মাস থেকে পর পর ছ’মাস জি এস টি সংগ্রহের পরিমান ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছিল, সেই অবস্থায় দু-মাসের বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্টতই ধীরে ধীরে হলেও অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের প্রতিফলন। সেপ্টেম্বরে প্রকৃত ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক গতিবিধির সঙ্গে অক্টোবরের জি এস টি রাজস্বে উর্ধগতির সম্পর্ক রয়েছে। এই মাসে রপ্তানিতে উন্নতি ঘটে এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে পারচেজিং ম্যানেজার সূচক পি এম আই সহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই কর্মসংস্থানমুখী ক্ষেত্র উন্নতির উন্নতির পথে এবং এইচ আই এস মার্কিট ইন্ডিয়া ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার ইনডেক্স (পিএমআই) সেপ্টেম্বর মাসের ৫৬.৮ এর তুলনায় অক্টোবর মাসে বেড়ে হয়েছে ৫৮.৯। ৩২ মাসে ধরে লাগাতার বৃদ্ধির অবস্থায় থাকার পর এপ্রিলে এই সূচক হ্রাস পায়।

পিএমআই এর ভাষায়, সূচক ৫০ এর ওপরে থাকার অর্থ সম্প্রসারণ, যখন এর চেয়ে কম থাকে তখন তাকে সংকোচন বলা হয়। সমীক্ষকরা বলেন বছরের প্রথম দিকে ভারতীয় উৎপাদকদের নতুন অর্ডার ও উৎপাদন কোভিড -১৯ সৃষ্ট সংকোচনের পর ক্রমশ পুনরুজ্জীবিত হয়। নির্মাতারা আভাষ দেন যে কোভিড -১৯ বিধিনিষেধ শিথিল করা, বাজারের উন্নত পরিস্থিতি এবং চাহিদা বৃদ্ধি অক্টোবরে তাদের নতুন কাজ পেতে সহায়তা করেছে। বড় বড় সংস্থাগুলি উত্পাদন বৃদ্ধি করার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বৃহত্তম নির্মাতারা অক্টোবরে রেকর্ড বিক্রয় করেছে, যা জিএসটি সংগ্রহের পরিমান আরো বাড়িয়ে তুলবে। উল্লেখ্য, জি এস টির একটি অংশ রাজ্যগুলি পেয়ে থাকে, জি এস টির রাজ্যের অংশকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা বিঘ্নিত হবার আশংকা দেখা দিয়েছে।

মজার বিষয় হল, অভ্যন্তরীণ পরিষেবা ক্ষেত্রে কার্যকলাপ পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে এবং উৎপাদন ক্ষেত্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে। আগস্টে উত্পাদন গতিবিধির পুনরুজ্জীবন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অক্টোবরে নতুন কাজ এবং ব্যবসায়িক কার্যকলাপ সম্প্রসারণের ফলে পরিষেবা ক্ষেত্রে উন্নতি পরিলক্ষিত হয়। সেই কারণে দেশের মোট আভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধি পেতে শুরু করছে। একটি বিশেষ লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হ'ল দেশের বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) চলতি অর্থবছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট এই পাঁচ মাসে ১৩ শতাংশ বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়েছে বলে অর্থনীতি বিষয়ক সচিব শ্রী তরুণ বাজাজ জানিয়েছেন।

এই উৎসাহ ব্যঞ্জক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ রাজধানীতে বিনিয়োগকারীদের পছন্দের গন্তব্য হিসাবে ভারতকে তুলে ধরতে ২০টি বৃহৎ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকের সভাপতিত্ব করছেন। বার্তাটি খুবই স্পষ্ট যে সারা বিশ্বে মহামারীর ফলে সৃষ্ট অনিশ্চিত সময়ে ভারত বিশ্ব অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এখনও আশার আলো দেখিয়ে যাচ্ছে কারণ এর একশো কোটির বেশি জনসংখ্যা এবং বিশাল বাজার এই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। (মূল রচনা: জি. শ্রীনিভাশন)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?