আফগান শান্তি আলোচনা: আশার ঝলক
দীর্ঘ কয়েক মাস বাক্যালাপ চলার পর, আফগান সরকার এবং তালেবানদের মধ্যে বহু প্রত্যাশিত শান্তি আলোচনা একটি নির্দিষ্ট বাঁক নেবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। উভয় পক্ষ আলোচনার পন্থাপদ্ধতির বিষয়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছেছে যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আলোচনা এবং কার্যপদ্ধতি নির্দিষ্টভাবে পরিচালনা সম্ভব হবে। একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে যা হিংসাদীর্ণ দেশটিতে সংঘর্ষ বিরতি সহ আরও একাধিক নির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে। আফগানিস্তানে বিশেষ মার্কিন দূত, জালমে খালিজাদের মতে, ঐ চুক্তির তিন পৃষ্ঠা নথিতে, আফগানিস্তানের ভবিষ্যত রাজনৈতিক প্রশাসনের খসড়া এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ, দীর্ঘদিন ধরে বিলম্বিত, সর্বাত্মক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পন্থা ও পদ্ধতিগুলির কথা বলা হয়েছে।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দোহায় মার্কিন-সমর্থিত শান্তি আলোচনা শুরু হয়। তবে উভয়পক্ষের মধ্যে অগণিত পার্থক্যের কারণে এ বিষয়ে নানা ধরণের জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। তালেবানরা আফগানিস্তানে আশরাফ গনির নেতৃত্বাধীন সরকারের বৈধতা মেনে নিতে অস্বীকার করছে। অন্যদিকে তালেবানদের উদ্দেশ্য নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তারা আফগান সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে সম্মত হলেও, আফগান সুরক্ষা বাহিনী এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটবাহিনী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
দুই পক্ষের তরফ থেকে জারি করা একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি যৌথ কার্যনির্বাহী কমিটি আলোচ্যসূচী প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে। এই পদক্ষেপটিকে সর্বতোভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মাইক পম্পেও এই প্রাথমিক চুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসাবে অভিহিত করেছেন এবং আলোচনার বিষয়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য উভয় পক্ষের অধ্যবসায় এবং সদিচ্ছার প্রশংসা করেন। শ্রী পম্পেও সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষকে আশ্বাস দেন যে আফগানিস্তানে হিংসাত্মক পরিস্থিতির প্রশমনের প্রয়াসে মার্কিন সরকার সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করবে। আফগানিস্তানে রাষ্ট্রসংঘের রাষ্ট্রদূত দেবোরা লিয়নসও চুক্তিটির প্রশংসা করেন যা ঐ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকও এই প্রয়াসকে একটি পদক্ষেপ হিসাবে উল্লেখ করেছে।
উভয় পক্ষ একটি ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে, যদিও এটি এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে তবে তাৎপর্যপূর্ণ জড়িততার বিষয়টি বোঝায়। এখন এটাই দেখার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নব নির্বাচিত বাইডেন প্রশাসন কীভাবে এর সমাধান করবে। মার্কিন নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প এই বছরের বড়দিনের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের কথা বলেছিলেন। তবে পরে তিনি ঐ কথকার থেকে খানিকটা সরে এসে ঘোষণা করেন যে ২০২১ সালের জানুয়ারির শুরুতে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস করা হবে। এই বক্তব্য বাস্তবায়িত হয়েছে কিনা তা এখনও দেখার অপেক্ষা। তবে দোহায় আলোচনায় যোগ দেওয়া উভয় পক্ষ থেকেই কিছু ভাল সংবাদ দেওয়া হয়েছে এবং শ্রী বাইডেনের পক্ষে তা অবহেলা করা কঠিন হতে পারে।
আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এখনও নড়বড়ে। তালেবান ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতার অনুসারে ২০২১ সালের মে মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে বিদেশী সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যেখানে তালেবান জঙ্গিরা আফগান ভূখণ্ডে হিংসা ও সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে, তখন এটা এখনও অনুমান করা কঠিন যে আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রত্যাহারের পরে আফগানিস্তান কতটা স্থিতিশীল হবে।
ভারত এই শান্তি আলোচনাকে দ্ব্যর্থহীনভাবে সমর্থন জানিয়ে এসেছে। সেপ্টেম্বরে দোহা আলোচনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তাঁর ভার্চুয়াল ভাষণে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্কর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, নীতিগতভাবে আলোচনা অবশ্যই আফগান- নেতৃত্বে, আফগান-পরিচালনায় এবং আফগান - নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত এবং এর ফলে আলোচনায় ভারতের সমর্থন বাড়ানো উচিত। আফগানিস্তানে বিনিয়োগের পরিমাণের প্রেক্ষিতে আফগানিস্তানে শান্তি ভারতের পক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ।
মাত্র কিছুদিন আগেই ভারত ও আফগানিস্তান কাবুলের নিকটে চাহার আসিয়াবে শাহতুত বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই প্রকল্পটি রূপায়িত হলে স্থানীয় আফগান জনগণকে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ সম্ভব হবে। এই চুক্তির বিষয়ে পাকিস্তান কিছুটা অসন্তুষ্ট। এটা স্পষ্ট যে ভারত ও আফগানিস্তান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন প্রচেষ্টায় একাধিক স্তরে সর্বোতোভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পাকিস্তান এই প্রয়াস ব্যহত করার অপচেষ্টা করতে পারে। সেক্ষেত্রে ভারত ও আফগানিস্তান উভয়কেই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ক্রমাগত প্রতিরোধের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
(মূল রচনা - ডঃ প্রিয়াঙ্কা সিং)
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দোহায় মার্কিন-সমর্থিত শান্তি আলোচনা শুরু হয়। তবে উভয়পক্ষের মধ্যে অগণিত পার্থক্যের কারণে এ বিষয়ে নানা ধরণের জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। তালেবানরা আফগানিস্তানে আশরাফ গনির নেতৃত্বাধীন সরকারের বৈধতা মেনে নিতে অস্বীকার করছে। অন্যদিকে তালেবানদের উদ্দেশ্য নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তারা আফগান সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে সম্মত হলেও, আফগান সুরক্ষা বাহিনী এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটবাহিনী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
দুই পক্ষের তরফ থেকে জারি করা একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি যৌথ কার্যনির্বাহী কমিটি আলোচ্যসূচী প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে। এই পদক্ষেপটিকে সর্বতোভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মাইক পম্পেও এই প্রাথমিক চুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসাবে অভিহিত করেছেন এবং আলোচনার বিষয়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য উভয় পক্ষের অধ্যবসায় এবং সদিচ্ছার প্রশংসা করেন। শ্রী পম্পেও সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষকে আশ্বাস দেন যে আফগানিস্তানে হিংসাত্মক পরিস্থিতির প্রশমনের প্রয়াসে মার্কিন সরকার সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করবে। আফগানিস্তানে রাষ্ট্রসংঘের রাষ্ট্রদূত দেবোরা লিয়নসও চুক্তিটির প্রশংসা করেন যা ঐ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকও এই প্রয়াসকে একটি পদক্ষেপ হিসাবে উল্লেখ করেছে।
উভয় পক্ষ একটি ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে, যদিও এটি এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে তবে তাৎপর্যপূর্ণ জড়িততার বিষয়টি বোঝায়। এখন এটাই দেখার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নব নির্বাচিত বাইডেন প্রশাসন কীভাবে এর সমাধান করবে। মার্কিন নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প এই বছরের বড়দিনের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের কথা বলেছিলেন। তবে পরে তিনি ঐ কথকার থেকে খানিকটা সরে এসে ঘোষণা করেন যে ২০২১ সালের জানুয়ারির শুরুতে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস করা হবে। এই বক্তব্য বাস্তবায়িত হয়েছে কিনা তা এখনও দেখার অপেক্ষা। তবে দোহায় আলোচনায় যোগ দেওয়া উভয় পক্ষ থেকেই কিছু ভাল সংবাদ দেওয়া হয়েছে এবং শ্রী বাইডেনের পক্ষে তা অবহেলা করা কঠিন হতে পারে।
আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এখনও নড়বড়ে। তালেবান ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতার অনুসারে ২০২১ সালের মে মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে বিদেশী সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যেখানে তালেবান জঙ্গিরা আফগান ভূখণ্ডে হিংসা ও সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে, তখন এটা এখনও অনুমান করা কঠিন যে আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রত্যাহারের পরে আফগানিস্তান কতটা স্থিতিশীল হবে।
ভারত এই শান্তি আলোচনাকে দ্ব্যর্থহীনভাবে সমর্থন জানিয়ে এসেছে। সেপ্টেম্বরে দোহা আলোচনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তাঁর ভার্চুয়াল ভাষণে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্কর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, নীতিগতভাবে আলোচনা অবশ্যই আফগান- নেতৃত্বে, আফগান-পরিচালনায় এবং আফগান - নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত এবং এর ফলে আলোচনায় ভারতের সমর্থন বাড়ানো উচিত। আফগানিস্তানে বিনিয়োগের পরিমাণের প্রেক্ষিতে আফগানিস্তানে শান্তি ভারতের পক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ।
মাত্র কিছুদিন আগেই ভারত ও আফগানিস্তান কাবুলের নিকটে চাহার আসিয়াবে শাহতুত বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই প্রকল্পটি রূপায়িত হলে স্থানীয় আফগান জনগণকে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ সম্ভব হবে। এই চুক্তির বিষয়ে পাকিস্তান কিছুটা অসন্তুষ্ট। এটা স্পষ্ট যে ভারত ও আফগানিস্তান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন প্রচেষ্টায় একাধিক স্তরে সর্বোতোভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পাকিস্তান এই প্রয়াস ব্যহত করার অপচেষ্টা করতে পারে। সেক্ষেত্রে ভারত ও আফগানিস্তান উভয়কেই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ক্রমাগত প্রতিরোধের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
(মূল রচনা - ডঃ প্রিয়াঙ্কা সিং)
Comments
Post a Comment